আকাশে মেঘের উপস্থিতি ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হঠাৎ ঘন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সড়ক ও পথঘাট কুয়াশায় ঢেকে ছিল।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়। চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। গ্রামের রাস্তা থেকে জেলা শহরের প্রধান সড়ক—সবখানেই ছিল কুয়াশার প্রভাব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে এর আগে এত ঘন কুয়াশা তারা দেখেননি। ভোরে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ায় অনেকের মধ্যেই শীতের আগমনের অনুভূতি তৈরি হয়। তবে এ সময় তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গলেহা কান্তমনি এলাকার বাসিন্দা আইবুল ইসলাম বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা দেখতে পান। কয়েক হাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। সেপ্টেম্বর মাসে এমন কুয়াশা আগে কখনো দেখেননি বলেও জানান তিনি।
জেলা শহরের ইজিবাইকচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর কুয়াশার কারণে সামনে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় সেখানে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, শরৎকালের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে আবহাওয়ায় এমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকা এবং হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াও কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো দেখা দিলে কুয়াশা ধীরে ধীরে কেটে যায়। পরে জেলার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।