ফরিদপুরে ঘরের জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ১২:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬০২ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সদরপুর উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। এ ঘটনাটি নিয়ে গোটা এলাকাজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব মিয়া জানান, ঘটনার সময় কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও কিশোরীর মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে ওই কিশোরী তার ছোট ভাই ও বোনকে নিয়ে অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। এসময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। পরে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, দাদির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকার সময় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বাড়ী ফিরে মেয়ের অবস্থা দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কিশোরীর ছোট বোনের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বোনকে চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
ভাসানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাওছার জানান, অভিযোগের বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকসেবন, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার সাথে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রনি ব্যাপারী নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















