জাতীয় দলে বিদেশি কোচ চান না সুজন, আস্থা দেশিদের ওপর
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ক্রিকেট দলে বিদেশি কোচের চেয়ে দেশি কোচদের ওপরই বেশি আস্থা খালেদ মাহমুদ সুজনের। তার মতে, ক্রিকেট শেখানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কোচরা কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। বরং স্থানীয় কোচরা দীর্ঘমেয়াদে দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে বেশি সুফল দিতে পারেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন সাবেক এই ক্রিকেটার ও কোচ।
দেশি কোচদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সুজন
সুজন বলেন, বাংলাদেশে অনেক কোচই লেভেল-৩ কোচিং সম্পন্ন করেছেন। তাদের আরও আগেই জাতীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। বর্তমানে আশরাফুল, তালহা, সালাউদ্দিন, সোহেল ও বাবুলের মতো দেশি কোচদের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করতে দেখে তিনি খুশি।
তার মতে, ক্রিকেট কোনো ‘রকেট সায়েন্স’ নয় যে অস্ট্রেলিয়ান বা বিদেশি কোচরাই ভালো শেখাতে পারবেন। বাংলাদেশি কোচরাও আধুনিক ক্রিকেটের কৌশল সম্পর্কে সমানভাবে জানেন। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশের কোচরাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করবেন বলেও আশাবাদী তিনি।
বিশেষজ্ঞ কোচ নিতে আপত্তি নেই
বিদেশি কোচ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পক্ষে নন সুজন। তবে তিনি মনে করেন, নির্দিষ্ট প্রয়োজন থাকলে স্বল্প সময়ের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ নেওয়া যেতে পারে।
ব্যাটিং বা বোলিংয়ের বিশেষ কোনো বিষয়ে পরামর্শের জন্য বিদেশি কোচ নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচের ওপর নির্ভরতা কমানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সুজনের ভাষ্য, ক্রিকেটের মৌলিক বিষয় সব দেশেই একই। ইনসুইং বোলিংয়ের গ্রিপ বা টেকনিক যেকোনো দেশেই একইভাবে শেখানো হয়। তাই ভাষার পার্থক্য ছাড়া স্থানীয় কোচদের পিছিয়ে থাকার কারণ দেখেন না তিনি।
বিশেষ করে জুনিয়র পর্যায়ে দেশি কোচদের সুবিধা বেশি বলে মনে করেন সুজন। কারণ তারা ক্রিকেটারদের বাংলায় বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদি কোচিং চান সুজন
আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও দেশি কোচরা ভালো করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন সুজন। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য অচেনা কোনো জায়গা নয়।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি কোচরা অনেক সময় শুধু সফরকেন্দ্রিকভাবে দলের সঙ্গে থাকেন। সফর শেষে তারা ছুটিতে চলে গেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করার সুযোগ থাকে না। বিপরীতে স্থানীয় কোচরা সফরের পরও ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
সুজনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য এই ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দায়িত্ব স্পষ্ট করার পরামর্শ
জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ নিয়েও নিজের মতামত দিয়েছেন সুজন। তার মতে, বোলিং কোচ হিসেবে তালহা ও সোহেলের মতো স্থানীয় কোচদের আরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে ব্যাটিংয়ে আশরাফুলকেও কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
তার মতে, একজন স্পিন, একজন ফাস্ট বোলিং ও একজন ফিল্ডিং কোচ থাকলেই কোচিং কাঠামো আরও কার্যকর হতে পারে। তবে সহকারী কোচের দায়িত্বও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
সুজন বলেন, বিদেশি কোচ নিয়োগের আগে দলের আসল প্রয়োজন বুঝতে হবে। স্থানীয় কোচরা যোগ্য না হলে তখন বিদেশি কোচ আনার কথা ভাবা যেতে পারে। তবে শুধু বিদেশি হলেই তিনি ভালো কোচ হবেন—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন সুজন।



























