চালুর দুই দিনের মাথায় আবার বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানার উৎপাদন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কারখানার বয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক।
বয়লারে ত্রুটিতে বন্ধ উৎপাদন
কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে যমুনা সার কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।
তবে বুধবার বিকেলে বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকার কারণেই বয়লারে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কারখানার অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে বয়লারের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে আবারও উৎপাদনে ফেরার আশা করা হচ্ছে।
কারখানা পুরোপুরি উৎপাদন সক্ষমতায় যেতে না পারলেও পুনরায় চালুর পর গত দুই দিনে মোট ১ হাজার ৬০০ টন সার উৎপাদন হয়েছে বলে জানান তিনি।
২৩ মাসও বন্ধ ছিল কারখানা
যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা কমে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টনে দাঁড়িয়েছে।
গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ ছিল কারখানাটি।
এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ পাওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে আবারও সার উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু দুই দিনের মাথায় বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।
২১ জেলায় সার সরবরাহ
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়।
কারখানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে কারখানার মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা গ্যাস বিল দিতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে কারখানার আর্থিক ক্ষতি।






















