বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে
- আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাঠে নামবে টাইগাররা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট বাংলাদেশের
দেশের বাইরে টেস্ট খেললেও এতদিন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি বাংলাদেশ। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আমিরাতের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটে এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন বাংলাদেশের জন্য।
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ১১টি দলের। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিরপেক্ষ মাঠে ৩৯টি টেস্ট খেলে তারা জয় পেয়েছে ১৯টিতে।
পাকিস্তানের পর এই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১৪টি টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়ার জয় ৭টি। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়া আর কোনো দল ১০টির বেশি নিরপেক্ষ টেস্ট খেলেনি। ভারত এ ধরনের ম্যাচ খেলেছে মাত্র দুটি। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ।
দুই দলের টেস্ট লড়াই সমানে সমান
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে দুটি টেস্টে। দুটিই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে।
২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে আফগানিস্তান স্বাগতিকদের ২২৪ রানে পরাজিত করে। তবে চার বছর পর ঘরের মাঠেই সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ।
২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই টেস্ট শেষে জয়-পরাজয়ের হিসাব এখন সমান—দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে।
ব্যাট হাতে শান্ত, বল হাতে রশিদ
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও রয়েছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ব্যাট হাতে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র দুই ইনিংসে ব্যাট করে দুটি সেঞ্চুরির সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান।
শান্তর পরেই রয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। চার ইনিংসে তার সংগ্রহ ১৯১ রান। ফলে আবুধাবির টেস্টেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হতে পারেন শান্ত ও মুমিনুল।
তবে বল হাতে এগিয়ে আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রশিদ খান। দুই ইনিংসে বোলিং করে দুটি পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি মোট ১১টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে তার পরেই রয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। চার ইনিংসে তাইজুলের শিকার ৮ উইকেট।
আবুধাবিতে নতুন চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা।
টেস্টের মতো এই সিরিজেও ‘স্বাগতিক’ হিসেবে থাকছে আফগানিস্তান। ফলে আমিরাতের কন্ডিশন, নিরপেক্ষ ভেন্যু এবং আফগান স্পিন আক্রমণের চ্যালেঞ্জ সামলে বাংলাদেশ কতটা সফল হতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

























