গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক ঐতিহাসিক চুক্তি
- আপডেট সময় : ১২:১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
আর্কটিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পেয়েছে। তবে ডেনমার্ক স্পষ্ট করেছে, এতে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশে চুক্তি স্বাক্ষর
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় পার্লামেন্টারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দীর্ঘমেয়াদি বা ‘সীমাহীন মেয়াদের’ একটি চুক্তি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
রাশিয়া-চীনকে ঠেকাতে নতুন বিধিনিষেধ
চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া, চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সেনা মোতায়েন বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে চীন ও রাশিয়ার গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সেনা পাঠানো এবং সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ ঠেকানোর ব্যবস্থা থাকবে।
নতুন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা
ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কাজ দ্রুত শুরু হবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে পিটুফিক বিমান ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আরও তিনটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নতুন সমঝোতাটি ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত। ২০০৪ সালে হালনাগাদ হওয়া ওই চুক্তির আওতায়ও গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সার্বভৌমত্ব থাকবে ডেনমার্কের
ট্রাম্পের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ দাবির পরও ডেনমার্ক বলেছে, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যাচ্ছে না।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, সমঝোতাটি ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এটিকে ন্যাটো ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের গ্রিনল্যান্ড নীতি
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে জোর দিয়ে আসছেন। তিনি এর আগে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন। এ নিয়ে ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
নতুন চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয় নেই। বরং আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ নিশ্চিত করাই এর মূল বিষয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

























