গানের মাঝেই বেঁচে আছেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর ১৭ বছর পরও তার সৃষ্ট গান মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। লোকসংগীতের ভাণ্ডারে তার অবদানও আজও অমলিন।
দারিদ্র্যের মধ্যেই সংগীতের শুরু
শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে গান গাইতেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে বাউল ও আধ্যাত্মিক সংগীতের চর্চায় নিজেকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেন শাহ আবদুল করিম। কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে সংগীতের শিক্ষা ও দীক্ষা নেন। একই সঙ্গে লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শনও তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
গানে উঠে এসেছে মানুষের জীবন
শাহ আবদুল করিমের গান বাংলা লোকসংগীতের অমূল্য সম্পদ। ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ও ‘গাড়ি চলে না’র মতো গান তাকে মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
তার গানে প্রেম ও বিরহের পাশাপাশি উঠে এসেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। সমাজের অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও তিনি গানে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফলে তার গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। বরং তা হয়ে উঠেছিল মানুষের জীবন ও সমাজের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
সংগীতচর্চার পাশাপাশি কৃষিকাজও করতেন এই বাউল সাধক। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গান থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা ও মানুষের জীবনবোধকে গানের কথায় তুলে ধরেছেন।
পেয়েছেন একুশে পদকসহ নানা সম্মাননা
বাংলার বাউল ও লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শাহ আবদুল করিম পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। ২০০১ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, লেবাক অ্যাওয়ার্ড, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা এবং সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন।
শাহ আবদুল করিমের প্রয়াণের বহু বছর পরও তার গান নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে শোনা যায়। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও তার গান পেয়েছে শ্রোতাপ্রিয়তা। তাই সময় পেরোলেও তার সৃষ্টি হারিয়ে যায়নি। বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তার গানই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।


























