০২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুথিদের দুই ঘাঁটির দখল নিলো ইয়েমেনি সেনাবাহিনী

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর কাছ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। দেশটির সৌদি-সমর্থিত সরকারের বাহিনী তীব্র সংঘর্ষের পর তাইজ ও লাহজ প্রদেশের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফায়াদ আল-নুমান তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুই কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ

শুক্রবার আনাদোলু এজেন্সিকে ফায়াদ আল-নুমান জানান, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলা এবং লাহজ প্রদেশের আল-সুবাইহা এলাকার মধ্যবর্তী আল-আঘবারা রণাঙ্গনে হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর ইয়েমেনি সেনাবাহিনী আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। এসব এলাকাকে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আল-নুমানের দাবি, সংঘর্ষে হুথিদের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি গোষ্ঠীটির শক্তিবৃদ্ধির জন্য আসা বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।

হুথিদের অবস্থানেও হামলা

ইয়েমেনি বাহিনী তাইজের পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-দারিফা এলাকার আল-হারথা গ্রামে হুথিদের আরও কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানান আল-নুমান।

এ সময় হুথিদের ব্যবহৃত কয়েকটি সামরিক যানও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর এসব দাবি নিয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ আল-আঘবারা এলাকা

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আঘবারা এলাকাটি হুথিদের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি লাহজ ও তাইজ—দুই প্রদেশের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

এই অবস্থানের কারণে দুই প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির মধ্যে যোগাযোগ ও যোদ্ধাদের চলাচল সহজ হয়। ফলে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ হারানো হুথিদের জন্য সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাত

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। এরপর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে চলে যান।

হুথিদের কাছ থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ফেরাতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইয়েমেনকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে গত জুলাই থেকে দেশটির সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

হুথিদের দুই ঘাঁটির দখল নিলো ইয়েমেনি সেনাবাহিনী

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর কাছ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। দেশটির সৌদি-সমর্থিত সরকারের বাহিনী তীব্র সংঘর্ষের পর তাইজ ও লাহজ প্রদেশের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফায়াদ আল-নুমান তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুই কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ

শুক্রবার আনাদোলু এজেন্সিকে ফায়াদ আল-নুমান জানান, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলা এবং লাহজ প্রদেশের আল-সুবাইহা এলাকার মধ্যবর্তী আল-আঘবারা রণাঙ্গনে হুথিদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর ইয়েমেনি সেনাবাহিনী আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। এসব এলাকাকে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আল-নুমানের দাবি, সংঘর্ষে হুথিদের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি গোষ্ঠীটির শক্তিবৃদ্ধির জন্য আসা বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।

হুথিদের অবস্থানেও হামলা

ইয়েমেনি বাহিনী তাইজের পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-দারিফা এলাকার আল-হারথা গ্রামে হুথিদের আরও কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানান আল-নুমান।

এ সময় হুথিদের ব্যবহৃত কয়েকটি সামরিক যানও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর এসব দাবি নিয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ আল-আঘবারা এলাকা

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আঘবারা এলাকাটি হুথিদের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি লাহজ ও তাইজ—দুই প্রদেশের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

এই অবস্থানের কারণে দুই প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির মধ্যে যোগাযোগ ও যোদ্ধাদের চলাচল সহজ হয়। ফলে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ হারানো হুথিদের জন্য সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাত

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। এরপর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে চলে যান।

হুথিদের কাছ থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ফেরাতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইয়েমেনকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে গত জুলাই থেকে দেশটির সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি