রাঠি-দীপকে আটক, দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জেন-জিদের
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে পুলিশ। তবে শীর্ষ নেতাদের আটক এবং রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করার মধ্যেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধরপাকড় ও পুলিশের বাধার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দিতে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি বানচাল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে।
ধ্রুব রাঠি ও অভিজিৎ দীপকেকে আটক
দিল্লিতে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করে গুরুগ্রাম পুলিশ। পরে দিল্লিতে অবতরণের পর বিমানের ভেতর থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
বিমানের ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যরা দীপকেকে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুরো ঘটনার ভিডিও ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার করেন তিনি।
বিমানের ভেতরে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমনটা করেননি। পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ। আমরা সবাই গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
ধরপাকড়ের সমালোচনা নেহা বোরার
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীজুড়ে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লিতে অবস্থানরত নাগরিক এবং রাজধানীর পথে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে ও ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে।
নেহা বোরা লেখেন, ‘তারা বলছে, তারা ভয় পায় না; তারা বলছে, বিক্ষোভ ব্যর্থ হবে। কিন্তু সত্য সবার সামনে। যন্তর মন্তর ২.০ শুরু হয়েছে।’
তার এই বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার বার্তা উঠে এসেছে। বিক্ষোভস্থলে কড়াকড়ি আরোপের পরও আন্দোলনের বিকল্প কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সাংবিধানিক আন্দোলন দমনের অভিযোগ
ককরোচ জনতা পার্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র যখন গণতান্ত্রিক ভিন্নমত দমনে ব্যাপকভাবে মানুষকে আটক করে, তখন গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণের ওপর বর্তায়।
দলটির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন, শক্তি প্রয়োগ করে একটি সাংবিধানিক আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে নেতাদের আটক করা হলেও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে দলটি।
যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিকল্প জমায়েতের ডাক
যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের পর বিকল্প স্থানে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইসার জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা।
এক্সে দেওয়া পৃথক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দিল্লি হাটই হয়ে উঠছে যন্তর মন্তর! দেখা হচ্ছে সেখানে!’
এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে বাধার মুখে অন্য জায়গায় জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সিইসির পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। শীর্ষ নেতাদের আটক, পুলিশের তল্লাশি এবং ব্যারিকেডের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং আটক নেতাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বিস্তারিত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।



























