ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ১০ লাখ ডলার দিচ্ছেন ম্যাকলেমোর
- আপডেট সময় : ০২:০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলেমোর। এড শিরানের ‘লুপ’ ট্যুর থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই মার্কিন শিল্পী।
ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার ঘোষণা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ম্যাকলেমোর বলেন, ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের মুক্তির জন্য আর অপেক্ষা করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকা এবং তাদের মুক্তির লড়াইকে সমর্থন করা তার মনোযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে গাজা ও অন্যান্য এলাকায় চলমান মানবিক সংকটের দিকে আলোচনার কেন্দ্র ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
ম্যাকলেমোর আরও বলেন, ফিলিস্তিনি মানুষের জীবন রক্ষার মূল্য অন্য যেকোনো মানুষের জীবনের চেয়ে কম নয়। মতপার্থক্য থাকলেও মানবিকতার প্রশ্নে সবাই একমত হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘লুপ’ ট্যুরের অর্থ যাবে ছয় সংস্থায়
ম্যাকলেমোর জানিয়েছেন, এড শিরানের ‘লুপ’ ট্যুর থেকে পাওয়া তার পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থায় দেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি রবার্ট ক্রাফটকে একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে ক্রাফট এখন পর্যন্ত ম্যাকলেমোরের আহ্বানে সরাসরি ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেননি।
এড শিরান অবশ্য ক্রাফটকে মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। পরে ক্রাফট জানান, তিনি ও শিরান মিলে এ অঞ্চলে মানবিক সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে কোন সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হবে, তা তখন নির্দিষ্ট করা হয়নি।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বক্তব্যের পর বাদ ট্যুর থেকে
সম্প্রতি নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের প্রতি সমর্থন জানান ম্যাকলেমোর। একই সঙ্গে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার এই বক্তব্যের পর ইসরাইলপন্থি সংগঠন ইসরাইলি-আমেরিকান কাউন্সিল তাকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি পিটিশন করে।
পরে এড শিরানের উত্তর আমেরিকা সফরের পরবর্তী অংশ থেকে ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়া হয়। শিরান জানান, সিদ্ধান্তটি তিনি এককভাবে নেননি। কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক জানিয়েছিলেন, ম্যাকলেমোর ওপেনিং অ্যাক্ট হিসেবে থাকলে তাদের স্টেডিয়ামে ট্যুর আয়োজন করা সম্ভব হবে না।
অন্য শিল্পীরাও ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ান
ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার পর ট্যুরের বাকি চার ওপেনিং অ্যাক্ট—ফিনিয়াস, অ্যারন রো, বেওগা ও লুকাস গ্রাহাম—তার প্রতি সংহতি জানিয়ে ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ান।
এদিকে সাবেক এনএফএল কোয়ার্টারব্যাক কলিন ক্যাপারনিক ম্যাকলেমোরের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে স্টেডিয়াম মালিকেরা ম্যাকলেমোরের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। তবে এটি ক্যাপারনিকের অভিযোগ; স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে তা উপস্থাপন করা হয়নি।
অন্যদিকে রবার্ট ক্রাফট ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও চিত্রকল্প ব্যবহারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। ম্যাকলেমোর অতীতে এ ধরনের বিতর্কের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি তার অবস্থানকে শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও সমতার পক্ষে বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
ফলে ম্যাকলেমোরকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন শিল্পীর রাজনৈতিক বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক জনপরিসরের আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। নিজের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়ে ম্যাকলেমোর জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টিকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

























