ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৮২ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং বিষজাতীয় ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্যাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন জিল্লুর।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়।
‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যার দাবি
ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি নিহত নারীর স্বজনদের খবর দেন যে, তাদের মেয়ে মারা গেছেন। পরে জানানো হয়, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর দুপুর ১টার দিকে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে স্বজনেরা জিল্লুরের বাড়িতে গিয়ে উঠানে একটি চৌকির ওপর ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে পরবর্তী তদন্তে বিষয়টি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড বলে উঠে আসে।
তদন্তে হত্যার তথ্য
এ ঘটনায় নিহত নারীর দুলাভাই ইমরান মোল্লা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন।
তদন্তে তিনি জানতে পারেন, আত্মহত্যার ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, জিল্লুর মোল্যা নিজেই তার স্ত্রীকে বিষজাতীয় পদার্থ ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়।
তদন্ত শেষে জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ময়নাতদন্তে নিকোটিনজাত বিষক্রিয়ার প্রমাণ
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিকোটিনজাত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তার শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে ‘গুল’ পাওয়া যায়।
চিকিৎসকের মতামতে বলা হয়, বিষক্রিয়ার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর ধরন হত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়।
আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জিল্লুর মোল্যাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
বৃহস্পতিবার আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।


























