দিনাজপুরে এবার লিচুর মৌসুম এসেছে দীর্ঘশ্বাস হয়ে
- আপডেট সময় : ০২:১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
রঙিন গুচ্ছের মিষ্টি স্বপ্ন নিয়ে যে মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন দিনাজপুরের হাজারো চাষি ও ব্যবসায়ী, সেই লিচুর মৌসুম এবার এসেছে হতাশার দীর্ঘশ্বাস হয়ে। আবহাওয়ার বৈরিতায় ফলন বিপর্যয়, বাড়তি উৎপাদন খরচ আর অনিশ্চিত বাজার—সব মিলিয়ে লোকসানের মুখোমুখি উত্তরের লিচু অর্থনীতি।
ভোর হতেই দিনাজপুরের গ্রামীণ পথগুলো জেগে ওঠে লিচুর মৌসুমী ব্যস্ততায়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভ্যান, ইজিবাইক আর ছোট যানবাহনে করে বাগানের লাল-সবুজ স্বপ্ন ছুটে যায় জেলার বৃহৎ লিচু বাজার কালীতলায়। কখনও বাঁশের ঝুড়িতে, কখনও প্লাস্টিকের ক্যারেটে সাজানো লিচুর গুচ্ছ—দেখলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন রঙিন এক অর্থনীতির মেলা বসিয়েছে উত্তরের জনপদে। জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে রয়েছে প্রায় ৬ হাজারের মতো ছোট-বড় লিচু বাগান।
মাদ্রাজি, বোম্বাই, বেদানা, চায়না থ্রি, চায়না টু, কাঠালি ও এলাচি—বিভিন্ন জাতের লিচু ঘিরে প্রতি বছর গড়ে ওঠে কয়েকশ কোটি টাকার অর্থনীতি।কিন্তু এবার প্রকৃতির আচরণ বদলে দিয়েছে পুরো হিসাব। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মাত্র ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ গাছে এসেছে ফলন। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ।
লিচুর সরবরাহ কম হওয়ায় বাজারে ইতোমধ্যে বাড়তি দামের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচুর বাজার শহরের কালিতলা সংলগ্ন নিউমার্কেট এলাকা। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যেখানে লেগে থাকে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণা। উৎপাদন কম হওয়ার কারণে এবার লাভের সম্ভাবনাও সীমিত।
পে-অফ:বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে ফলভান্ডার হিসেবেও। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার। কারণ, মাঠের ফসল আর বাগানের ফল শুধু কৃষকের স্বপ্ন নয়—এ অঞ্চলের অর্থনীতিরও প্রাণস্পন্দন।






















