তাহসিফ হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে এদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে আসামি দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যেভাবে নিখোঁজ হন সাবেক বিমান কর্মকর্তা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি রাজধানীর তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ খবর পায়, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসছে।
খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন নিহত তাহসিফ সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেন, নিহত তাহসিফ তার সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার বিস্তারিত এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পাঁচ কারণে চাওয়া হয় সাত দিনের রিমান্ড
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে দীপের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। কারণগুলো হলো—
১. হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও হত্যার উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করা।
২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা।
৩. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ মামলার প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার করা।
৪. নিহত তাহসিফ সাউরির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা।
৫. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি
শুনানির সময় আসামি দীপকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাবার করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপ
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১টা ৫ মিনিটে তিনি মামলাটি করেন। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


























