সাজেকে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের কলাবুনিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া গোলাগুলিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদ সোলায়মান, রাঙামাটি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ইউনিয়নের কলাবুনিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয়। এরপর বেশ কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে কলাবুনিয়া ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কলাবুনিয়া এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। শনিবার দুপুরে সেই উত্তেজনা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কলাবুনিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের অস্ত্রধারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল শিশু
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইলাতলী এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ওই ঘটনার পর থেকে সাজেক এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। নিজেদের অবস্থান ও আধিপত্য ধরে রাখতে উভয় পক্ষের তৎপরতা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সড়ক অবরোধে বাড়ছে জনদুর্ভোগ
এদিকে সাজেক এলাকা থেকে জেএসএসকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এর ফলে সাজেকের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ও স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে।
একদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত, অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সড়ক অবরোধ—সব মিলিয়ে সাজেক ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পেশার মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাজেকে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে সর্বশেষ গোলাগুলির পর এলাকায় পরিস্থিতি কী অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।























