দুর্নীতির মামলায় সাবেক কাউন্সিলর সাঈদের ৭ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর একে এম মমিনুল হক সাঈদকে দুর্নীতির মামলায় পৃথক দুই ধারায় মোট সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক হামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দুদক প্রসিকিউটর এস এম আবুল কালাম (আজাদ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড
দুদক প্রসিকিউটর জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সাবেক কাউন্সিলর সাঈদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে তাঁকে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সব মিলিয়ে তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে সাত বছর।
রায়ে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের ক্রোক করা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে তাঁকে জরিমানা করা হয়েছে।
২০১৯ সালে দুদকের মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ২৬১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকার ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাসিনো ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেন মমিনুল হক সাঈদ। তাঁর অর্জিত সম্পদের সঙ্গে ঘোষিত ও জ্ঞাত আয়ের অসংগতি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকার। তদন্তে আসামির ৫ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এরপর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। বিচার চলাকালে মামলাটিতে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালত সব সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে রায় ঘোষণা করেন।
পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি
মামলার বিচার চলাকালে আসামি পলাতক থাকায় তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। রায় ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্নীতির মামলায় এ রায়ের ফলে সাবেক এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জরিমানার আদেশ কার্যকর করার বিষয়টি সামনে এসেছে।

























