০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ঢামেকে বদলি বিরোধে মুখোমুখি চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও নতুন কর্মকর্তার যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা বিরোধের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দুটি পক্ষ।

চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর কক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের বিচার দাবিতে পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন কর্মচারীদের একটি অংশ।

যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত

ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। একই সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ঢামেকে যোগদান করতে পারেননি। অন্যদিকে বদলি হওয়া রেজাউল ইসলামও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অংশ পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেন। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় রেজাউল ইসলামের কক্ষে তালা দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। চিকিৎসকদের একটি পক্ষ তাঁর কক্ষে তালা দিতে চাইলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হানিফের কাছে তালা চাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, তালা দিতে সহযোগিতা না করায় হানিফকে মারধর করা হয়। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ মিছিল করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

পরিচালকের পদত্যাগ দাবি

মঙ্গলবার সকালে হানিফকে মারধরের অভিযোগের বিচার চেয়ে পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে প্রশাসনিক ব্লকে যান কর্মচারীদের একটি অংশ। একই সময়ে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে।

দুপুর ১২টার দিকে তারা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ‘দফা এক, দাবি এক—পরিচালকের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।

চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক বদলি ও যোগদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমান পরিচালকের অধীনে হাসপাতালের প্রশাসনিক পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।

অন্যদিকে কর্মচারীদের অবস্থান পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে নয়। তাদের মূল দাবি, সহকর্মী হানিফকে মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পরিচালকের কক্ষে এবং কর্মচারীদের একটি অংশ পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের পুরো চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মূল উত্তেজনা প্রশাসনিক ব্লক ও পরিচালকের কার্যালয়কে ঘিরে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ, কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এবং পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ঢামেকের চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দুটি পক্ষ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঢামেকে বদলি বিরোধে মুখোমুখি চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও নতুন কর্মকর্তার যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা বিরোধের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দুটি পক্ষ।

চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর কক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের বিচার দাবিতে পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন কর্মচারীদের একটি অংশ।

যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত

ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। একই সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ঢামেকে যোগদান করতে পারেননি। অন্যদিকে বদলি হওয়া রেজাউল ইসলামও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অংশ পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেন। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় রেজাউল ইসলামের কক্ষে তালা দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। চিকিৎসকদের একটি পক্ষ তাঁর কক্ষে তালা দিতে চাইলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হানিফের কাছে তালা চাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, তালা দিতে সহযোগিতা না করায় হানিফকে মারধর করা হয়। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ মিছিল করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

পরিচালকের পদত্যাগ দাবি

মঙ্গলবার সকালে হানিফকে মারধরের অভিযোগের বিচার চেয়ে পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে প্রশাসনিক ব্লকে যান কর্মচারীদের একটি অংশ। একই সময়ে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে।

দুপুর ১২টার দিকে তারা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ‘দফা এক, দাবি এক—পরিচালকের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।

চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক বদলি ও যোগদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচালকের ভূমিকা নিয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমান পরিচালকের অধীনে হাসপাতালের প্রশাসনিক পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।

অন্যদিকে কর্মচারীদের অবস্থান পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে নয়। তাদের মূল দাবি, সহকর্মী হানিফকে মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পরিচালকের কক্ষে এবং কর্মচারীদের একটি অংশ পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের পুরো চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মূল উত্তেজনা প্রশাসনিক ব্লক ও পরিচালকের কার্যালয়কে ঘিরে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ, কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এবং পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ঢামেকের চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দুটি পক্ষ।