৩১ অক্টোবর লংমার্চ পালনের ঘোষণা
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে ১১ দলের হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬১ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে তার পরিণতি হবে মাগুরার মতো, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। একই সঙ্গে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে সরকারকে সতর্কবার্তা
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন। তাঁর দাবি, জোটের প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে সেখানে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওই আসনে জোটের জনসভা হওয়ার কথাও জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ পরিকল্পনা হচ্ছে বলে তাঁদের কাছে খবর আছে। এমন কিছু হলে সরকারকে মাগুরা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাগুরার নির্বাচনকে তিনি দেশের নির্বাচনী ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সেখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা হয়ে চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। কোনো অসৎ পরিকল্পনা থাকলে তা বাতিল করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ঠেকাতে জনগণও প্রস্তুত হচ্ছে এবং জোট ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবে।
জোটের পাঁচ দফা দাবি
ব্রিফিংয়ে জোটের পক্ষ থেকে যেসব দাবি তোলা হয়: দুর্নীতি বন্ধ করা, প্রশাসনে দলীয়করণ রোধ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি, গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের পথ উন্মুক্ত করা।
জোট ভাঙার গুঞ্জন নাকচ
সাত দলের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা ও জোটের ঐক্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, ১১ দল ভেঙে যাওয়া বা কেউ বেরিয়ে আসার খবর অপপ্রচার। তাঁর ভাষ্য, ওই বৈঠকে সাত দলসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের উপস্থিতিই এসব গুঞ্জনের জবাব। তিনি জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ঐক্য অটুট রেখে এগিয়ে যাবে ১১ দল।
৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া লংমার্চ
কর্মসূচির সময়সূচি: ৩১ অক্টোবর, সকাল ৭টা: বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু, সকাল ৮টা: সমাবেশ শেষে যাত্রা, রুট: ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া
পথসভার স্থান (মোট ছয়টি): মাদারীপুর-শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর, খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড়, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড। কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে সমাপনী সভার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
আযাদ বলেন, লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং পুরো পথে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো উসকানির আভাস থাকলে সরকারের আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, সরকার বা ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী। এ ছাড়া এবি পার্টি, জাগপা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও লেবার পার্টির (চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান) নেতারাসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছিলেন।
























