জল্পনা-কল্পনা পেরিয়ে মিলিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৬ সালের ১৪-১৫ মে বেইজিং-এ মিলিত হতে চলেছেন। এই শীর্ষ সম্মেলনটি হবে প্রায় এক দশকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। মূলত মার্চের শেষের দিকে এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে তা বিলম্বিত হয়।
এই বৈঠকটি বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক সংকটময় মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই শি জিনপিংকে একজন “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” হিসেবে বর্ণনা করেন।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও জনপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলেহান্দ্রো রেই-য়েস বলেছেন যে এটি কোনো বন্ধুত্বের শীর্ষ সম্মেলন নয়। বরং, এটিকে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করার লক্ষ্যে একটি ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা বৈঠক হিসেবেই দেখা শ্রেয়।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, ট্রাম্প চান, চীন যেন আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনে এবং বিমান ও উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে। ইরানের বিষয়ে, তিনি তেহরানকে প্রভাবিত করার জন্য পর্দার আড়ালে আরও বেশি কিছু করতে চীনকে চাপ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে সাহায্য করার জন্য। হংকং-এর মতো অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি তাইওয়ানও আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর চীন মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর স্থিতিশীলতা চায়, কারণ সেখানকার সংঘাত সরাসরি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। শি জিনপিং একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে চীনের মর্যাদাকে আরও শক্তিশালী করতেও চাইছেন, যা উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে নীরবে তা প্রশমিত করার জন্য কাজ তবে, বাণিজ্য বা শুল্ক যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অস্থায়ী নয়, বরং ক্রমশ একটি কাঠামোগত রূপ নিচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি কূটনৈতিক বিজয় খুঁজছেন, যা তিনি দেশে তুলে ধরে বিশ্বমঞ্চে স্থিতিশীলতা আনার প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারবেন। অন্যদিকে, চীন ততটা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন নয় এবং তারা স্থিতিশীলতা প্রদর্শন ও নিজেদেরকে একজন দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে মনোনিবেশ করছে।
এই দুই শক্তির মিলন কেবল মঞ্চে নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির সূক্ষ্ম সুতোয় গাথা, যেখানে প্রত্যেক সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি অনুভূত হবে বহুদূর পর্যন্ত। আর শেষ পর্যন্ত, এই বৈঠক দেখাবে—বন্ধুত্বের কল্পনা যতই উজ্জ্বল হোক না কেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি সবসময় নিজের ধূসর বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।























