০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি

এক দশকে অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে গত এক দশকে অ-কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে কর্মসংস্থান ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালে কর্মে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ (ভলিউম-২)’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অ-কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন।

২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন উৎপাদন খাতে—৯০ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ জন। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৬ জন। অর্থাৎ এক দশকে এ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান কিছুটা কমেছে। ২০১৩ সালে এ খাতে ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮১০ জন কর্মে নিয়োজিত থাকলেও ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ৮১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৭ জন। পতন হয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রশাসনিক ও সহায়ক সেবা খাতে। ২০১৩ সালের ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৩ জন থেকে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৬ জন—প্রবৃদ্ধি ২৫৫ দশমিক ১ শতাংশ। নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। শিল্প, বিনোদন ও অবকাশ খাতে ২৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ খাতে ১৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সেবায় ১০১ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

শিক্ষা খাতে কর্মসংস্থান ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩০ জন। মানব স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে বেড়েছে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে খনি ও খনিজ উত্তোলন খাতে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে। ২০১৩ সালে এ খাতে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৪৪৪ জন। ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ১৭ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ এক দশকে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অ-কৃষি অর্থনীতিতে শুধু কর্মসংস্থানের পরিমাণই বাড়েনি, এর কাঠামোও বদলেছে। উৎপাদন ও বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, পেশাগত ও প্রশাসনিক সেবার মতো দক্ষতাভিত্তিক খাতে কর্মসংস্থানের গুরুত্ব বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক বলেন, এক দশকে ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তথ্য সংগ্রহ ও জরিপের পদ্ধতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশাসনিক খাতে জনবল বৃদ্ধির প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক সেবায় কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটিও বিশ্লেষণ করা দরকার।

সব মিলিয়ে, বিবিএসের অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য বলছে—বাংলাদেশের অ-কৃষি অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি কাজের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। উৎপাদন ও ঐতিহ্যগত বাণিজ্যনির্ভর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক কাজ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি

এক দশকে অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৫:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে গত এক দশকে অ-কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে কর্মসংস্থান ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালে কর্মে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ (ভলিউম-২)’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অ-কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন।

২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন উৎপাদন খাতে—৯০ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ জন। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৬ জন। অর্থাৎ এক দশকে এ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান কিছুটা কমেছে। ২০১৩ সালে এ খাতে ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮১০ জন কর্মে নিয়োজিত থাকলেও ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ৮১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৭ জন। পতন হয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রশাসনিক ও সহায়ক সেবা খাতে। ২০১৩ সালের ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৩ জন থেকে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৬ জন—প্রবৃদ্ধি ২৫৫ দশমিক ১ শতাংশ। নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। শিল্প, বিনোদন ও অবকাশ খাতে ২৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ খাতে ১৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সেবায় ১০১ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

শিক্ষা খাতে কর্মসংস্থান ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩০ জন। মানব স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে বেড়েছে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে খনি ও খনিজ উত্তোলন খাতে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে। ২০১৩ সালে এ খাতে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৪৪৪ জন। ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ১৭ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ এক দশকে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অ-কৃষি অর্থনীতিতে শুধু কর্মসংস্থানের পরিমাণই বাড়েনি, এর কাঠামোও বদলেছে। উৎপাদন ও বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, পেশাগত ও প্রশাসনিক সেবার মতো দক্ষতাভিত্তিক খাতে কর্মসংস্থানের গুরুত্ব বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক বলেন, এক দশকে ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তথ্য সংগ্রহ ও জরিপের পদ্ধতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশাসনিক খাতে জনবল বৃদ্ধির প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক সেবায় কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটিও বিশ্লেষণ করা দরকার।

সব মিলিয়ে, বিবিএসের অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য বলছে—বাংলাদেশের অ-কৃষি অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি কাজের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। উৎপাদন ও ঐতিহ্যগত বাণিজ্যনির্ভর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক কাজ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।