কুমিল্লায় বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত
- আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
‘হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট: ডোন্ট মিস এ বিট’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২৬।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হৃদরোগের লক্ষণ উপেক্ষা না করার আহ্বান
কুমিল্লা হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী নারী সংগঠন ইনার হুইল বাংলাদেশের সাবেক ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান ও ইনার হুইল ক্লাব অব কুমিল্লার চার্টার প্রেসিডেন্ট ডা. মল্লিকা বিশ্বাস, পিডিজি আব্দুল আউয়াল, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্টের সাবেক জেলা গভর্নর এম এ আউয়াল এবং পিডিজি সাবেক ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর এম এ আহাদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, হৃদরোগের অনেক লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা দৈনন্দিন কাজের সময় সামান্য অস্বস্তিকেও অনেকে গুরুত্ব দেন না। পরে এসব সমস্যা জটিল হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
তাই হৃদরোগের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। একই সঙ্গে ধূমপান পরিহার ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি
বক্তারা বলেন, হৃদরোগ শুধু বয়স্ক মানুষের সমস্যা—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও ধূমপানের মতো কারণে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। হৃদরোগের কোনো সতর্ক সংকেত দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা।
প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পর্যায়ে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, ওজনসহ বিভিন্ন ঝুঁকি শনাক্তের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, আইনজীবী, অধ্যাপক, সাংবাদিক, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের এ আয়োজনের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সুস্থ জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়।






















