০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আমিরাত-সৌদি সংঘর্ষের নতুন অধ্যায় শুরু

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা ও অবরোধের মধ্যেই আগামী মাসে ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের জন্য সরাসরি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেও মনে করা হচ্ছে।

তাদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে বরং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিভাজন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই আরও তীব্র করে তুলছে।

বাহ্যিকভাবে দেখলে ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্তটি সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধেরই পরিণতি। মূল দ্বন্দ্ব ছিল—সদস্য দেশগুলো কত পরিমাণ তেল উৎপাদন করবে। এতদিন সৌদি আরব তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সীমিত রাখতে চেয়েছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত চেয়েছে উৎপাদন বাড়াতে।

এই পার্থক্যের পেছনে দুই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ বসবাস করে এবং তাদের তেলের মজুত আমিরাতের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে আমিরাতে নাগরিক সংখ্যা মাত্র প্রায় ১০ লাখ, ফলে তেল আয়ের ভাগাভাগি তুলনামূলকভাবে কম মানুষের মধ্যে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ইরান যুদ্ধের আগে সৌদি আরবও ধীরে ধীরে আমিরাতের অবস্থানের দিকে এগোচ্ছিল। একসময় তেল সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকা রিয়াদ এখন উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।

ওপেকের তৃতীয় বৃহৎ উৎপাদক দেশ হিসেবে আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে এবং ইসরাইলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।

সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিলেও একইসঙ্গে পাকিস্তানের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছে। বিপরীতে, আমিরাত প্রকাশ্যে ও গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে এবং আলোচনার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল আল-মাজরুই বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপেক ছাড়ার সময়টি সঠিক, কারণ এতে উৎপাদকদের ওপর প্রভাব কম পড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতারই অংশ। সৌদি আরব ওপেক ও ওপেক প্লাস জোটে নেতৃত্ব দেয়। এক পশ্চিমা কূটনীতিকের ভাষায়, ‘এটি সৌদিদের ক্ষুব্ধ করবে। মনে হচ্ছে আমিরাতের বড় কোনো পরিকল্পনা আছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু তেলের নয়, ক্ষমতারও—কে দিকনির্দেশ দেবে উপসাগরীয় রাজনীতিকে, আর কে লিখবে ভবিষ্যতের জ্বালানি মানচিত্র। হরমুজের উত্তাল জলরাশির মতোই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এই সমীকরণ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

গুরুত্বপূর্ণ লিংক সমুহ


Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2309

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2313

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2319

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2323

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2327

Warning: Attempt to read property "post_status" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2331

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/satv/public_html/wp-admin/includes/template.php on line 2345

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আমিরাত-সৌদি সংঘর্ষের নতুন অধ্যায় শুরু

আপডেট সময় : ০১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা ও অবরোধের মধ্যেই আগামী মাসে ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের জন্য সরাসরি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেও মনে করা হচ্ছে।

তাদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে বরং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিভাজন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই আরও তীব্র করে তুলছে।

বাহ্যিকভাবে দেখলে ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্তটি সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধেরই পরিণতি। মূল দ্বন্দ্ব ছিল—সদস্য দেশগুলো কত পরিমাণ তেল উৎপাদন করবে। এতদিন সৌদি আরব তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন সীমিত রাখতে চেয়েছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত চেয়েছে উৎপাদন বাড়াতে।

এই পার্থক্যের পেছনে দুই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ বসবাস করে এবং তাদের তেলের মজুত আমিরাতের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে আমিরাতে নাগরিক সংখ্যা মাত্র প্রায় ১০ লাখ, ফলে তেল আয়ের ভাগাভাগি তুলনামূলকভাবে কম মানুষের মধ্যে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ইরান যুদ্ধের আগে সৌদি আরবও ধীরে ধীরে আমিরাতের অবস্থানের দিকে এগোচ্ছিল। একসময় তেল সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকা রিয়াদ এখন উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।

ওপেকের তৃতীয় বৃহৎ উৎপাদক দেশ হিসেবে আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে এবং ইসরাইলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।

সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিলেও একইসঙ্গে পাকিস্তানের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছে। বিপরীতে, আমিরাত প্রকাশ্যে ও গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে এবং আলোচনার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল আল-মাজরুই বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপেক ছাড়ার সময়টি সঠিক, কারণ এতে উৎপাদকদের ওপর প্রভাব কম পড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতারই অংশ। সৌদি আরব ওপেক ও ওপেক প্লাস জোটে নেতৃত্ব দেয়। এক পশ্চিমা কূটনীতিকের ভাষায়, ‘এটি সৌদিদের ক্ষুব্ধ করবে। মনে হচ্ছে আমিরাতের বড় কোনো পরিকল্পনা আছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু তেলের নয়, ক্ষমতারও—কে দিকনির্দেশ দেবে উপসাগরীয় রাজনীতিকে, আর কে লিখবে ভবিষ্যতের জ্বালানি মানচিত্র। হরমুজের উত্তাল জলরাশির মতোই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এই সমীকরণ।