টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
- আপডেট সময় : ০৪:১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনেই ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে একপেশে হয়ে ওঠে ম্যাচের ফল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং। ১১৫ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে কাভেম হজ ২৭ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ব্র্যান্ডন কিংয়ের ব্যাটে সহজ জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১১২ রান যোগ করেন তারা।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২১তম ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন জন ক্যাম্পবেল। ৫৫ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৯ রান করেন তিনি। অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে তার বিদায়ে কিছুটা স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের শিবিরে।
তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন ব্র্যান্ডন কিং। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ক্যাচ মিসের পর বাউন্ডারি পেয়ে যান কিং। পরে ৬৮ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পান অধিনায়ক শান্ত। পরে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তার অনুপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য দলের নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের বলে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে ফেরেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। তবে এরপর আর কোনো বিপদে পড়তে হয়নি সফরকারীদের। ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজের ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নাঈমের অর্ধশতকেও রক্ষা হয়নি বাংলাদেশের
এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ফলে বড় সংগ্রহ গড়ার পরিবর্তে যতটা সম্ভব লিড বাড়ানোই ছিল ব্যাটারদের প্রধান লক্ষ্য।
দিনের শুরুতে ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন নাঈম হাসান। এক প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন এই ব্যাটার।
তবে নাঈমের একক প্রচেষ্টা দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি। অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৪২ রানে। এতে প্রথম ইনিংসের লিডসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এই লক্ষ্য ক্যারিবীয়দের জন্য খুব বেশি কঠিন ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়ই হারের মূল কারণ
মিরপুর টেস্টের ফলাফলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখার সুযোগ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়ে সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে স্বাগতিকরা।
বিশেষ করে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। কোনো কার্যকর জুটি গড়ে না ওঠায় দলের সংগ্রহ বড় করা সম্ভব হয়নি। নাঈম হাসানের অর্ধশতক ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিগত অবদান দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন। লক্ষ্য তাড়ায় ক্যাম্পবেল ও কিংয়ের ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেয়। পরে কিং ও হজের অপরাজিত জুটি জয় নিশ্চিত করে।
সিরিজ বাঁচাতে পরের টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে হবে বাংলাদেশকে
মিরপুরে ৮ উইকেটের পরাজয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ফলে সিরিজে সমতা ফেরাতে পরবর্তী টেস্টে জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে।
এমন পরিস্থিতিতে দলের ব্যাটিং বিভাগকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে টপ অর্ডারকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। পাশাপাশি মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। শুধু ব্যক্তিগত রান নয়, দলের প্রয়োজনে বড় জুটি গড়ার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে ব্যাটারদের।
বোলিং বিভাগেও শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে। মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরের ম্যাচে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে না পারলে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রথম টেস্টে দাপুটে জয় পাওয়ায় সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরের ম্যাচে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন দেখার বিষয়, মিরপুরের ব্যর্থতা কাটিয়ে সিরিজের শেষ টেস্টে বাংলাদেশ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
























