রেকর্ড গড়ে ভারতকে ৮৭ রানে হারাল নিউজিল্যান্ড
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েছে নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় কিউইরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের বড় জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম জয়ের দেখা পেল নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা ভারত শেষ ম্যাচে এসে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেল। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগও হাতছাড়া করল সফরকারীরা।
অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস ও ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে নিউজিল্যান্ড। বিশেষ করে গ্লেন ফিলিপস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এর আগে চলতি বছর সাউদাম্পটনে ভারতের বিপক্ষে ২৫৭ রান করেছিল ইংল্যান্ড। সেটিই ছিল টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে ২৫৯ রান করে নতুন ইতিহাস গড়ল নিউজিল্যান্ড।
ফিলিপসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, ব্রেসওয়েলের ঝড়
নিউজিল্যান্ডের বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন গ্লেন ফিলিপস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। মাত্র ৪৯ বলে ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায়। বিশেষ করে বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠানোর ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা দেখান ফিলিপস। ভারতীয় বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি।
অন্য প্রান্তে ফিলিপসকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রান করেন এই অলরাউন্ডার। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা।
দুজন মিলে মাত্র ৪১ বলে যোগ করেন ১১৫ রান। তাদের এই বিধ্বংসী জুটি নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। ১৬ ওভারের মধ্যেই দলের রান দুইশ ছাড়িয়ে যায়।
শেষ দিকে নিতিশ কুমার রেড্ডি ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন। পরে প্রিন্স যাদবের শিকার হন ব্রেসওয়েল। তবে ততক্ষণে নিউজিল্যান্ডের রান পাহাড় গড়া হয়ে গেছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।
শুরুতেই ধাক্কা, ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভারত
২৬০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ভারত। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাত্র চার বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন সাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। ফলে মাত্র ৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
এরপর অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়াস আইয়ার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
অভিষেক শর্মা ২৭ রান করে এবং শ্রেয়াস আইয়ার ২২ রান করে ফিরে যান। পাওয়ার প্লের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ব্যাটারের বিদায়ে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। দলীয় ১০০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই আরও দুই ব্যাটারকে হারায় তারা। একপর্যায়ে ৮৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে দলটি।
ডাফির চার উইকেটে বড় জয় নিউজিল্যান্ডের
ভারতের হয়ে তিলক ভার্মা ও নামান ধীর কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। তিলক করেন ৩৫ রান। অন্যদিকে নামান ধীরের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করার জন্য তাদের এই ইনিংস যথেষ্ট ছিল না।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জ্যাকব ডাফি। ম্যাচের প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলা এই পেসার পরে ১২তম ওভারে পরপর দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন।
চার ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন ডাফি। এছাড়া ম্যাথু ফিশার ও মিচেল স্যান্টনার দুটি করে উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই থামে ভারতের ইনিংস। ফলে ৮৭ রানের বিশাল জয় পায় নিউজিল্যান্ড।
এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল কিউইরা। অন্যদিকে, সিরিজে এগিয়ে থেকেও শেষ ম্যাচে এমন বড় পরাজয় ভারতের জন্য হতাশার হয়ে থাকল।






















