০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েন যাত্রী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া ব্যাঙের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুই গ্রামের লোকজন সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সাতপাকিয়া কাঁচাবাজারে এক কৃষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।

ভ্যানগাড়ির ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধ

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতপাকিয়া কাঁচাবাজারে একটি ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে ডাকপাড়া এলাকার এক কৃষকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় গড়ায়।

এ ঘটনার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষই মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার উদ্যোগ নেয়। এতে এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।

মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হন দুই গ্রামের লোকজন

শনিবার ভোর থেকে দুই গ্রামের লোকজন শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ইটের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্যসহ দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

সংঘর্ষের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার এবং শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। পরে দুই পক্ষের লোকজন সড়ক থেকে সরে গেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, শুক্রবার সাতপাকিয়া কাঁচাবাজারে একটি ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত হয়। পরে দুই গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে শনিবার সকালে জড়ো হওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, পুলিশ ভোর থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ কারণে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ওসি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শেরপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েন যাত্রী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া ব্যাঙের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুই গ্রামের লোকজন সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সাতপাকিয়া কাঁচাবাজারে এক কৃষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।

ভ্যানগাড়ির ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধ

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতপাকিয়া কাঁচাবাজারে একটি ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে ডাকপাড়া এলাকার এক কৃষকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় গড়ায়।

এ ঘটনার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষই মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার উদ্যোগ নেয়। এতে এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।

মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হন দুই গ্রামের লোকজন

শনিবার ভোর থেকে দুই গ্রামের লোকজন শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ইটের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্যসহ দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

সংঘর্ষের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার এবং শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। পরে দুই পক্ষের লোকজন সড়ক থেকে সরে গেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, শুক্রবার সাতপাকিয়া কাঁচাবাজারে একটি ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত হয়। পরে দুই গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে শনিবার সকালে জড়ো হওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, পুলিশ ভোর থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ কারণে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ওসি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।