ফরিদপুরে পৌরকর দিতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুর পৌরসভায় পৌরকর দিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন পৌরবাসিন্দা নাজনীন আক্তার। তাঁর দাবি, পৌরকরসংক্রান্ত বিষয়ে একটি আবেদনে স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেই আবেদন ব্যবহার করে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে ওই মামলার বাদী করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুর শহরের থানা রোডে অবস্থিত ফরিদপুর কণ্ঠের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নাজনীন আক্তার। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পৌরকর দিতে গিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে নাজনীন আক্তার বলেন, পৌরকরসংক্রান্ত কাজে তিনি ফরিদপুর পৌরসভায় যান। সেখানে পৌরসভার একজন কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগী একটি আবেদনে তাঁর স্বাক্ষর নেন। তবে কী উদ্দেশ্যে ওই আবেদনে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বাক্ষর করা ওই আবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ওই অভিযোগের মামলায় বাদী হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন নাজনীন আক্তার।
তাঁর অভিযোগ, পৌরকরসংক্রান্ত কাজের জন্য গিয়ে তিনি যে আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন, সেটি কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তাঁর জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
নাজনীন আক্তার বলেন, তাঁর স্বাক্ষর করা আবেদনটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নাজনীন আক্তার। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার পৌর কর্মকর্তার
এদিকে নাজনীন আক্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদপুর পৌরসভার সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান কিরণ। তিনি অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
ওয়াহিদুজ্জামান কিরণ বলেন, নাজনীন আক্তার পৌরকরসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে পৌরসভায় এসেছিলেন। এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর পৌরকর কমাতে সহায়তা করেছেন। এর বাইরে এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
ফলে নাজনীন আক্তারের অভিযোগ এবং পৌর কর্মকর্তার বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আবেদন, মামলার নথি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।




















