জামালপুরে হস্তশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
‘জামালপুরের নকশি কাঁথা, বাংলাদেশের গর্বগাথা’—জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের এই স্লোগানকে সামনে রেখে জামালপুরে হস্তশিল্পের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে প্রশিক্ষণবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জামালপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী সভাপতিত্ব করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন।
নকশি কাঁথা ও নকশি সূচিশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্ব
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শাহীনুর আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকুল রহমান লিটন।
বক্তারা বলেন, জামালপুরের নকশি কাঁথা ও নকশি সূচিশিল্প জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব পণ্য জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এর সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগর ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া হস্তশিল্প ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ দেওয়ার পাশাপাশি পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর আহ্বান
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হস্তশিল্পের কারিগর ও উদ্যোক্তারা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। একই সঙ্গে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে হস্তশিল্প পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তারা জামালপুরে একটি নকশি পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে জেলার নকশি কাঁথা ও নকশি সূচিশিল্পকে একটি সুসংগঠিত শিল্পখাতে রূপ দেওয়া সম্ভব বলে মত দেন তারা।
বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান
বক্তারা আরও বলেন, জামালপুরের নকশি পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন, আধুনিক ডিজাইন, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই শিল্পকে রপ্তানিমুখী করা সম্ভব।
এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী নকশি পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার এবং সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।





















