পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা, সৌদিজুড়ে হামলার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
সাধারণত সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে সৌদি আরবে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। তবে সতর্কতা জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হয়।
মক্কাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা
সিভিল ডিফেন্সের বিবৃতি অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে মক্কা নগরীতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও পৃথক সতর্কতা জারি করা হয়।
সতর্কবার্তা জারির পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আগে সৌদি আরবের জাতীয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ
গত সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করে, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুথিদের ছোড়া ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে মক্কা নগরীতে হামলার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই হুথিরা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদি রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইয়েমেন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ায় ইয়েমেনের সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনাকেও প্রভাবিত করছে।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দখলের দাবি করে হুথিরা। এসব এলাকার অবস্থান সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি।
এর আগে জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় হুথিরা। এরপর ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হামলা শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা এবং দেশটির তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে আসে।
সূত্র: এএফপি






















