১ অক্টোবর যোগ দেবেন ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর আওতায় নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। যোগদানের পর তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এদিন সংসদে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষক নিয়োগ
সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। জেলা পর্যায়ে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ৪ অক্টোবর তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।
নতুন এসব শিক্ষক যোগ দিলে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত ও শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রধান শিক্ষক পদে ৩৬ হাজার ৯৬০ শূন্য
প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শুধু সহকারী শিক্ষক নয়, প্রধান শিক্ষক পদেও বড় ধরনের শূন্যতা রয়েছে। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৩৬ হাজার ৯৬০টি পদ শূন্য রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
পদোন্নতির কার্যক্রম চলমান
সংসদে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৭৩/২০২৩-এর মামলাটি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদোন্নতিযোগ্য প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পদোন্নতির মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে দীর্ঘদিনের শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষক সংকট কমাতে উদ্যোগ
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক—দুই পর্যায়েই বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকে। এর প্রভাব পড়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে।
সরকার শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি নতুন নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে এ সংকট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর মাধ্যমে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
নতুন শিক্ষকরা যোগদানের পর কোন বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষক প্রয়োজন, সে অনুযায়ী তাদের পদায়ন করা হবে। এতে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে এমন বিদ্যালয়গুলোতে জনবল বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকট কমাতে একদিকে নতুন নিয়োগ এবং অন্যদিকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পদ দ্রুত পূরণ করা গেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
























