ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ অভিযান।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ জন্য বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে অভিযান
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান
তিন মাসের এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেবেন।
এ ছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত করা হবে। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
অভিযানের সময় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন স্থাপনা কিংবা অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এসব জায়গা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হবে।
প্রচারে গুরুত্ব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে টেলিভিশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হবে। বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
























