বিচারকরা এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন, নির্ভরতা নয় : আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০১:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৭ বার পড়া হয়েছে
বিচারকরা রায় লেখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন। তবে কোনোভাবেই এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিচারককে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও সততা কাজে লাগাতে হবে।
রায় লেখায় এআই ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটিতে আয়োজিত বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান বলেন, একজন বিচারক রায় লেখার সময় নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে রায় লেখা হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করে রায় লেখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষায়, এআইয়ের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এর ওপর নির্ভরতা তৈরি করা উচিত নয়।
এআই আইন নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই
আইনমন্ত্রী বলেন, এআই-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের বিষয়টি সরকার যাচাই-বাছাই করছে। এ ক্ষেত্রে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সঙ্গে এআই আইন কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সেটিও দেখা হচ্ছে।
এআই নিয়ে যারা গবেষণা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করছেন, তাদের এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের খসড়া তৈরিতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে সরকার তা সাদরে গ্রহণ করবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
এআই ব্যবহারে বিচারকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান
বিচারিক অঙ্গনে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ এমনিতেই কঠিন। এর মধ্যে এআই ব্যবহার করে কেউ যদি মানুষকে বিভ্রান্ত বা ভুল পথে পরিচালিত করতে চান, তাহলে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন। ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও এর বাইরে থাকবেন না।
এমনকি এআই ব্যবহার করে একজন বিচারককেও প্রভাবিত বা হয়রানি করার চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করেন আইনমন্ত্রী। তাই বিচারকদের এআই ব্যবহারের বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

























