পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দাবিতে আইনি নোটিশ
- আপডেট সময় : ০৪:১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৩ বার পড়া হয়েছে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং মন্ত্রী হিসেবে তাদের নিয়োগ ও শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ নোটিশ পাঠান। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের উল্লেখ
নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, সংসদ সদস্য হিসেবে যোগ্যতা এবং মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়গুলো যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী আসলাম মিয়া নোটিশে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক ও ২৫ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন এমন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। তবে ৬৬(২)(গ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
এ কারণে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্বের ইতিহাস, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দেওয়ার তথ্য সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
শপথ ও নিয়োগের বৈধতা যাচাই
নোটিশে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা করতে হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও প্রতিরক্ষার অঙ্গীকারের বিষয় রয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, ড. খলিলুর রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার বর্তমান নাগরিকত্ব, অতীতে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ বা বিদেশি পাসপোর্ট ধারণের তথ্য এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা বা শপথের বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
একইভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বর্তমান ও অতীত নাগরিকত্ব, বিদেশি পাসপোর্ট এবং বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা সরকারি রেকর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।
সাত দিনের মধ্যে জবাবের আহ্বান
আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন ও জাতীয়তা-সংক্রান্ত সরকারি নথি পরীক্ষা করে তাদের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণ সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
যাচাইয়ে কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা বা আইনগত অসঙ্গতি পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার এবং অযোগ্যতা না থাকলে তাদের নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আইনসম্মত জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া। নির্ধারিত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উপযুক্ত সাংবিধানিক বা বিচারিক ফোরামের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ, রায় বা সিদ্ধান্ত নয়। বরং দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।


























