কিয়েভের উপকণ্ঠে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ২৭
- আপডেট সময় : ০৪:৫৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পশ্চিম উপকণ্ঠে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।
গুদামে বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ
হামলার পর কিয়েভের প্রসিকিউটররা ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছেন। তাদের ধারণা, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া গুদামটিতে বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু মজুদ ছিল।
তবে স্থাপনাটি কী ধরনের প্রতিষ্ঠান বা সেখানে কী পরিমাণ বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাননি।
ইউক্রেনের জেনারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ২৮ আগস্ট রাত ৮টা ১০ মিনিটে একটি ড্রোন মিলা শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে আঘাত হানে। এরপর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। একপর্যায়ে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রসিকিউটররা এখন ওই প্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরক বস্তু ও উপকরণ মজুদের অনুমতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে মেয়রও
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাতের হামলার পর কিয়েভের পশ্চিম উপকণ্ঠে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। শনিবারও ওই স্থাপনায় আগুন জ্বলছিল বলে জানিয়েছে ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা।
‘একই ভুলের পুনরাবৃত্তি’
হামলার পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেতস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে কিয়েভের কাছে ভিশনেভেতে একটি গোলাবারুদের ডিপোতে প্রাণঘাতী হামলার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো শিক্ষা নেয়নি।
তিনি বলেন, যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ‘ফৌজদারি অবহেলা’। দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তিনি।
আবাসিক এলাকায় গোলাবারুদ নয়: জেলেনস্কি
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ মজুদ রাখা উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণের অনুমতি নেই। এ ঘটনায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে শিক্ষা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে। এসব হামলায় অগ্নিকাণ্ড ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে।


























