বগুড়ায় ৭ বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩২ বার পড়া হয়েছে
বাড়ির বাইরে খেলছিল ৭ বছরের শিশু আমেনা খাতুন। খেলাধুলা শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমেনাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পাঠান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমেনা খাতুন ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবু হোসাইন (৩৫)। তিনি একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির বাইরে খেলছিল আমেনা। এ সময় তাকে দেখে আবু হোসাইন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে শিশুটিকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে লাঠি দিয়েও তাকে আঘাত করা হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা অভিযুক্ত আবু হোসাইনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু হোসাইনকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে ৭ বছরের শিশুর ওপর কেন এমন হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণও জানা যায়নি।
অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, আবু হোসাইন মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি পুলিশ যাচাই করে দেখবে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তার মানসিক অবস্থাও যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।
এদিকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির এমন নির্মম মৃত্যুতে পাঠান গ্রামে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।























