০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র প্রস্তুত ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর মেহের নিউজের।

স্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এসব নতুন সক্ষমতার কিছু ‘চমক’ প্রকাশ করা হবে। তাঁর দাবি, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময়ে দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার দাবি

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, হামলার বিস্তৃতি এবং প্রতিপক্ষের ব্যাপক অগ্নিশক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং কেন্দ্রীয় খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও এসব সংঘাত ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতির নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বেড়েছে অস্ত্র উৎপাদন

ইরানি এই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের আগেই দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলগত মজুত হিসেবে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ তৈরি করে রেখেছিল। যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি কোম্পানির একটি নেটওয়ার্ক উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত ছিল।

তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে সহায়তা করেছে। ফলে কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

তালায়ি-নিকের ভাষ্য, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অস্ত্রের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনে জোর

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে যাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে অস্ত্র রপ্তানিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি।

তার মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।

প্রতিরোধ সক্ষমতাকেই বড় ‘চমক’ বললেন কর্মকর্তা

রেজা তালায়ি-নিক সাম্প্রতিক যুদ্ধের অন্যতম বড় ‘চমক’ হিসেবে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল যুদ্ধের প্রথম দিকের দিনগুলোতেই ইরানের সামরিক, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। তবে বাস্তবে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং ইরান তার সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র প্রস্তুত ইরানের

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর মেহের নিউজের।

স্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এসব নতুন সক্ষমতার কিছু ‘চমক’ প্রকাশ করা হবে। তাঁর দাবি, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময়ে দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার দাবি

রেজা তালায়ি-নিক বলেন, হামলার বিস্তৃতি এবং প্রতিপক্ষের ব্যাপক অগ্নিশক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং কেন্দ্রীয় খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও এসব সংঘাত ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতির নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বেড়েছে অস্ত্র উৎপাদন

ইরানি এই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের আগেই দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলগত মজুত হিসেবে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ তৈরি করে রেখেছিল। যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি কোম্পানির একটি নেটওয়ার্ক উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত ছিল।

তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে সহায়তা করেছে। ফলে কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

তালায়ি-নিকের ভাষ্য, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অস্ত্রের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনে জোর

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে যাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে অস্ত্র রপ্তানিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি।

তার মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দেশটি।

প্রতিরোধ সক্ষমতাকেই বড় ‘চমক’ বললেন কর্মকর্তা

রেজা তালায়ি-নিক সাম্প্রতিক যুদ্ধের অন্যতম বড় ‘চমক’ হিসেবে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল যুদ্ধের প্রথম দিকের দিনগুলোতেই ইরানের সামরিক, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। তবে বাস্তবে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং ইরান তার সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।