০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুজাউজ্জামান জুয়েল, ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬০৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। ‎​রবিবার  (২৩আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
‎‎​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ‎​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দূর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯),   এবং একই গ্রামের ওসমান বেপারী  (২৯)।

‎​মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাদ্রাসার ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার  মঙ্গলপুর দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকালে ওই যুবকের সাথে দেখা করতে গোয়ালন্দ ঘাটে যায় মেয়েটি। এ সময় মেয়েটি ছেলেটিকে না পেয়ে তাঁর চাচাতো ভাইকে ফোন করে। পরে তার ভাই মেয়েটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামীরা মেয়েটির ভাইকে ফোন করে তাদের বাড়িতে আসতে বলে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষীপুর এলাকায় আসামিদের ভাড়াটিয়ার বাড়িতে আসেন। সেখানেই মেয়েটিকে নিয়ে আসামিরা রাত্রি যাপন করেন।
পরের দিন সকালে আসামি সুমন মোল্লা ঘরে প্রবেশ করিয়া তাহার ছবি মোবাইলের ছড়িয়া দেয়ার কথা বলিয়া হুমকি প্রদান করে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে অপর আসামি ওসমান বেপারীও
তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর আসামিরা মেয়েটি এবং তার চাচাতো ভাইকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি প্রদান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারে কাছে সবকিছু খুলে বলে। এর পর মেয়েটির মা বাদী হয়ে
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানা ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

‎​মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রবিবার এ রায় প্রদান করেন।

‎​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, “আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফরিদপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৪:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। ‎​রবিবার  (২৩আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
‎‎​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ‎​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দূর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯),   এবং একই গ্রামের ওসমান বেপারী  (২৯)।

‎​মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাদ্রাসার ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার  মঙ্গলপুর দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকালে ওই যুবকের সাথে দেখা করতে গোয়ালন্দ ঘাটে যায় মেয়েটি। এ সময় মেয়েটি ছেলেটিকে না পেয়ে তাঁর চাচাতো ভাইকে ফোন করে। পরে তার ভাই মেয়েটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামীরা মেয়েটির ভাইকে ফোন করে তাদের বাড়িতে আসতে বলে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষীপুর এলাকায় আসামিদের ভাড়াটিয়ার বাড়িতে আসেন। সেখানেই মেয়েটিকে নিয়ে আসামিরা রাত্রি যাপন করেন।
পরের দিন সকালে আসামি সুমন মোল্লা ঘরে প্রবেশ করিয়া তাহার ছবি মোবাইলের ছড়িয়া দেয়ার কথা বলিয়া হুমকি প্রদান করে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে অপর আসামি ওসমান বেপারীও
তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর আসামিরা মেয়েটি এবং তার চাচাতো ভাইকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি প্রদান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারে কাছে সবকিছু খুলে বলে। এর পর মেয়েটির মা বাদী হয়ে
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানা ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

‎​মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রবিবার এ রায় প্রদান করেন।

‎​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, “আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”