ফরিদপুরে গণধর্ষণের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৪:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮৭২ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গোয়ালন্দ ঘাটে যায় সে। সেখানে যুবককে না পেয়ে তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে। পরে ওই ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা ফোন করে তাদের বাড়িতে আসতে বলে।
একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় আসামিদের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে রাতে অবস্থান করেন তারা।
পরদিন সকালে আসামি সুমন মোল্যা ঘরে ঢুকে ওই ছাত্রীর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। পরে ওসমান বেপারীও তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার কথা কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাড়ি ফিরে ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা খুলে বলে। পরে তার মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ রায়ে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো অপরাধ কমবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।























