অভিযোগের কেন্দ্রে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতি
পাঁচ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষক চাকরিচ্যুত
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
যৌন হয়রানি, দুর্নীতি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত পাঁচ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চার শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের এক চিকিৎসককেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সব মিলিয়ে এ সময়ে রাবিতে চাকরিচ্যুত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। শিক্ষকদের পাশাপাশি ২০২৪ সালে রাবির চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসক ডা. রাজু আহমেদকেও যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরিচ্যুত করা হয়।
২০২২ সালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও জালিয়াতির অভিযোগে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মে হাবিবা জেসমিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক সালমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ উঠলেই সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তা যেই হোন না কেন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র জানায়, অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে গত বছরের আগস্টে নিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে চেম্বারে ডেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। পরে ওই শিক্ষার্থীর মা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। পরে সিন্ডিকেট সভায় স্থায়ী চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধেও ২০২৫ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিন্ডিকেট তাকে চাকরিচ্যুত করে।
এ ছাড়া উম্মে হাবিবা জেসমিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও বিদেশে অবস্থানের অভিযোগ এবং সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে ছুটি নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।





















