বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি
এক দশকে অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০৫:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে গত এক দশকে অ-কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে কর্মসংস্থান ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালে কর্মে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখের বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ (ভলিউম-২)’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অ-কৃষি অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন।
২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন উৎপাদন খাতে—৯০ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ জন। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৬ জন। অর্থাৎ এক দশকে এ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান কিছুটা কমেছে। ২০১৩ সালে এ খাতে ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮১০ জন কর্মে নিয়োজিত থাকলেও ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ৮১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৭ জন। পতন হয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রশাসনিক ও সহায়ক সেবা খাতে। ২০১৩ সালের ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৩ জন থেকে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৬ জন—প্রবৃদ্ধি ২৫৫ দশমিক ১ শতাংশ। নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। শিল্প, বিনোদন ও অবকাশ খাতে ২৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ খাতে ১৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সেবায় ১০১ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শিক্ষা খাতে কর্মসংস্থান ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩০ জন। মানব স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে বেড়েছে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে খনি ও খনিজ উত্তোলন খাতে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে। ২০১৩ সালে এ খাতে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৪৪৪ জন। ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ১৭ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ এক দশকে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অ-কৃষি অর্থনীতিতে শুধু কর্মসংস্থানের পরিমাণই বাড়েনি, এর কাঠামোও বদলেছে। উৎপাদন ও বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, পেশাগত ও প্রশাসনিক সেবার মতো দক্ষতাভিত্তিক খাতে কর্মসংস্থানের গুরুত্ব বাড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক বলেন, এক দশকে ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তথ্য সংগ্রহ ও জরিপের পদ্ধতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশাসনিক খাতে জনবল বৃদ্ধির প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক সেবায় কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটিও বিশ্লেষণ করা দরকার।
সব মিলিয়ে, বিবিএসের অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য বলছে—বাংলাদেশের অ-কৃষি অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি কাজের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। উৎপাদন ও ঐতিহ্যগত বাণিজ্যনির্ভর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক কাজ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


























