জকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন হোসেনের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর একাধিক সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, সরকার ঘোষিত ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ।
প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালান। এতে কয়েকজন রক্তাক্ত ও আহত হন। পাশাপাশি ছাত্রশিবির ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর ভিপি রিয়াজুর ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা যায়।
জকসুর নেতাদের দাবি, তারা ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়, প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা এবং সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তার দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাই এর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, অডিটোরিয়ামে জুলাই-সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

























