রাজশাহীতে আমের ভরা মৌসুমেও চাষী ও বর্গাদারদের মুখে নেই হাসি
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / ১৫৭৯ বার পড়া হয়েছে
আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীতে এবার ভরা মৌসুমেও হাসি নেই আম চাষিদের মুখে। পাইকারি বাজারে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় চরম হতাশ বাগান মালিক ও বর্গাদাররা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরই সারাদেশে আমের চাষ বাড়ায় কমছে নির্দিষ্ট অঞ্চলের আমের চাহিদা। এমন পরিস্থিতিতে আম সংরক্ষণাগার ও বৈদেশিক বাজার সৃষ্টি করতে না পারলে লোকসানের ভারে চাষিরা আম উৎপাদনে উৎসাহ হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাছে গাছে ঝুলছে পরিপক্ব আম, বাজারেও মিলছে পর্যাপ্ত জোগান। আমের রাজধানী রাজশাহীর বাতাসে এখন মধুর সুবাস। তবে প্রকৃতির এই উপহারের মাঝেও স্বস্তিতে নেই স্থানীয় আম চাষি ও বর্গাদাররা। ভরা মৌসুমেও মিলছে না আমের কাঙ্ক্ষিত দাম।
বাগান মালিকদের দাবি, তীব্র দাবদাহ আর খরার কারণে এবার গাছে দ্রুত পেকে যাচ্ছে আম। ফলে বাধ্য হয়েই একসাথে সব আম বাজারে তুলতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার সংকটে টানা তিন বছর ধরে লোকসানের বৃত্তেই আটকে আছেন তারা।
চাষিরা বলছেন, পচনশীল এই ফল দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে তা পচে নষ্ট হয়ে যায়। তাই সংকট উত্তরণে অঞ্চলে একটি আধুনিক আম সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে আম রপ্তানির দাবি তাদের।
ফল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন আর শুধু রাজশাহী বা চাঁপাই নবাবগঞ্জ নয়, দেশের প্রায় সব জেলাতেই বাণিজ্যিকভবে আমের চাষ হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ায় কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আমের ওপর একচেটিয়া চাহিদা কমছে। চাষিদের বাঁচাতে এখন প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
দেশের অর্থনীতিতে আমের অবদান ধরে রাখতে প্রয়োজন সরকারি নীতি-নির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদী ও নিবিড় পরিকল্পনা। সঠিক ব্যবস্থাপনা আর রপ্তানি বাড়াতে পারলে, আমের এই নানান জাতই হতে পারে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় হাতিয়ার।
























