নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩৮৪ জন নিখোঁজ
- আপডেট সময় : ০৫:০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নেপালের উত্তরাঞ্চলে। নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ২৯১ জন বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অবিনারায়ণ কাফলের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
এদিকে রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীরও সাত সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি মহাসড়ক। এতে দুর্গত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবিনারায়ণ কাফলে এএফপিকে জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বন্যাটি ব্যাপক এবং এতে নদীর তীরবর্তী অনেক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সতর্ক করা হয়েছে।
জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, মেডিকেল টিম, স্কাউট ও রেড ক্রসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এর তীব্রতাও বাড়ছে।






















