চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ৫৫তম জশনে জুলুস
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। বুধবার সকালে নগরজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনে শিশু, কিশোর, তরুণ, নারী-পুরুষ ও বয়োজ্যেষ্ঠসহ বিভিন্ন বয়সী বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।
বুধবার সকালে নগরের ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে জুলুসটি শুরু হয়। মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা ও লালখান বাজার হয়ে জুলুস টাইগারপাসে পৌঁছায়। সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে একই পথে ফিরে এসে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে জুলুসের সমাপ্তি হয়।
জুলুসের পুরো পথজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ নির্ধারিত স্থানে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল ধর্মীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। বিভিন্ন সড়কে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় জনসমুদ্রের দৃশ্য।
জশনে জুলুসকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়কদ্বীপ ও সড়ক বিভাজকগুলো সাজানো হয় নানা রঙের তোরণ, আনজুমানের পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে। বিভিন্ন ভবন ও সড়কের আশপাশেও করা হয় ব্যাপক সাজসজ্জা।
জুলুস সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।
বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে নগরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
চট্টগ্রামে জশনে জুলুস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজন। প্রতিবছর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এবারও নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে ৫৫তম জশনে জুলুস জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জুলুস শেষে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী কর্মসূচি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন অংশগ্রহণকারীরা। দিনভর জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে বিরাজ করে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় আবহ।




















