০২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

হাসপাতালের দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্রকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জনবল সংকট নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি সফরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিনসহ ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী এসব কেন্দ্রে সেবা নিতে পারবেন। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সেবার জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের চিকিৎসার জন্য আরও ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপনের পাশাপাশি উন্নত মানের প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। এর ফলে রোগীদের প্রাথমিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডরমিটরিসহ তিনতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব ভবনে চিকিৎসকদের অবস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পটির দরপত্র একই সময়ে আহ্বানের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়নের অধীন প্রতিটি পুরোনো ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে মিডওয়াইফরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রে নারীদের স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং করা হবে। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।

রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। রোগের ধরন ও জটিলতা বিবেচনায় রোগীরা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং প্রয়োজনে টারশিয়ারি বা উচ্চতর বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করছে সরকার।

এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র সম্পন্ন

দেশের হাসপাতালগুলোতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এরই মধ্যে এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে।

এ হিসাবে যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেই, সেসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে মেশিন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর ফলে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা পেতে ভোগান্তি কমবে এবং জেলা পর্যায়েই চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাড়ে চারশ চিকিৎসক যোগ দেবেন, নিয়োগ পাবেন আরও পাঁচ হাজার

স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ১ নভেম্বর সাড়ে চারশ চিকিৎসক কাজে যোগ দেবেন। এ ছাড়া আরও পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর ৪১ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো গেলে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের ওপর রোগীদের চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯ শয্যা, খালেদা জিয়ার সময়ে ৫০ শয্যা

উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এসব হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

এরপর আর কোনো সরকার স্বাস্থ্য খাতের এই অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য নজর দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সময় লাগবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সাত মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের সব সেবা উন্নত করা সম্ভব নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে লুটপাটের কারণে এ খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছিল। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে চায়।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

হাসপাতালের দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্রকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জনবল সংকট নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি সফরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিনসহ ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী এসব কেন্দ্রে সেবা নিতে পারবেন। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সেবার জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের চিকিৎসার জন্য আরও ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপনের পাশাপাশি উন্নত মানের প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। এর ফলে রোগীদের প্রাথমিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডরমিটরিসহ তিনতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব ভবনে চিকিৎসকদের অবস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পটির দরপত্র একই সময়ে আহ্বানের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়নের অধীন প্রতিটি পুরোনো ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে মিডওয়াইফরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রে নারীদের স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং করা হবে। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।

রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। রোগের ধরন ও জটিলতা বিবেচনায় রোগীরা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং প্রয়োজনে টারশিয়ারি বা উচ্চতর বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করছে সরকার।

এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র সম্পন্ন

দেশের হাসপাতালগুলোতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এরই মধ্যে এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে।

এ হিসাবে যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেই, সেসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে মেশিন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর ফলে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা পেতে ভোগান্তি কমবে এবং জেলা পর্যায়েই চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাড়ে চারশ চিকিৎসক যোগ দেবেন, নিয়োগ পাবেন আরও পাঁচ হাজার

স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ১ নভেম্বর সাড়ে চারশ চিকিৎসক কাজে যোগ দেবেন। এ ছাড়া আরও পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর ৪১ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো গেলে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের ওপর রোগীদের চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯ শয্যা, খালেদা জিয়ার সময়ে ৫০ শয্যা

উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এসব হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

এরপর আর কোনো সরকার স্বাস্থ্য খাতের এই অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য নজর দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সময় লাগবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সাত মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের সব সেবা উন্নত করা সম্ভব নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে লুটপাটের কারণে এ খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছিল। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে চায়।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।