০২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চোরকে নফল নামাজ পড়ালেন দোকান মালিক

আরিফ রেহমান, বগুড়া
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫২৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওষুধ চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ব্যতিক্রমী শাস্তি দিয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের একটি ফার্মেসির মালিক ও স্থানীয়রা। ওই যুবককে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ হিসেবে পড়ানো হয়েছে ১০০ রাকাত নফল নামাজ।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সান্তাহার পূর্ব ঢাকা রোড এলাকার তাজ ফার্মেসি অ্যান্ড মেডিসিন শপে। আটক যুবকের নাম মো. আলামিন (৩০)। তিনি আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

দোকান মালিক জহুরুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি দোকান খোলা রেখে বাথরুমে যান। এ সময় আলামিন দোকানের গেটের পাশে রাখা একটি চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে ওষুধ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে চেয়ারটি ভেঙে তিনি নিচে পড়ে যান।

ঘটনার শব্দ শুনে পাশের দোকানের ব্যবসায়ী মাসুদ সেখানে ছুটে এসে আলামিনকে আটক করেন। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওষুধ চুরির চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানান, আলামিনকে মারধর না করে অন্যভাবে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে বলা হয়। তাদের মতে, এতে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে অপরাধ থেকে বিরত থাকবেন।

পাশের কীটনাশক ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান মামুন বলেন, “দীর্ঘ সময় নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে তাকে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে তাকে শারীরিকভাবে কোনো আঘাত করা হয়নি।”

স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামাজ শেষ করার পর আলামিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে প্রচলিত শাস্তির বাইরে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই উত্তম।

সান্তাহারের এই ঘটনা আবারও আলোচনায় এনেছে অপরাধ দমনে শাস্তির ধরন ও সংশোধনের সুযোগের বিষয়টি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চোরকে নফল নামাজ পড়ালেন দোকান মালিক

আপডেট সময় : ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ওষুধ চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ব্যতিক্রমী শাস্তি দিয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের একটি ফার্মেসির মালিক ও স্থানীয়রা। ওই যুবককে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ হিসেবে পড়ানো হয়েছে ১০০ রাকাত নফল নামাজ।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সান্তাহার পূর্ব ঢাকা রোড এলাকার তাজ ফার্মেসি অ্যান্ড মেডিসিন শপে। আটক যুবকের নাম মো. আলামিন (৩০)। তিনি আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

দোকান মালিক জহুরুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি দোকান খোলা রেখে বাথরুমে যান। এ সময় আলামিন দোকানের গেটের পাশে রাখা একটি চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে ওষুধ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে চেয়ারটি ভেঙে তিনি নিচে পড়ে যান।

ঘটনার শব্দ শুনে পাশের দোকানের ব্যবসায়ী মাসুদ সেখানে ছুটে এসে আলামিনকে আটক করেন। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওষুধ চুরির চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানান, আলামিনকে মারধর না করে অন্যভাবে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে বলা হয়। তাদের মতে, এতে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে অপরাধ থেকে বিরত থাকবেন।

পাশের কীটনাশক ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান মামুন বলেন, “দীর্ঘ সময় নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে তাকে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে তাকে শারীরিকভাবে কোনো আঘাত করা হয়নি।”

স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামাজ শেষ করার পর আলামিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে প্রচলিত শাস্তির বাইরে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই উত্তম।

সান্তাহারের এই ঘটনা আবারও আলোচনায় এনেছে অপরাধ দমনে শাস্তির ধরন ও সংশোধনের সুযোগের বিষয়টি।