ভারতের উপকূলে জাহাজডুবি, নিখোঁজ বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৮২ বার পড়া হয়েছে
ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। তার নিখোঁজের খবরে সাতক্ষীরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ডক্টর আব্দুর রহিমের ছেলে।
মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি জানান, এখনো তার ভাইয়ের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় কোস্টগার্ডের আপডেট ও ব্রিফিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।
তিনি বলেন, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিবারের সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর শনিবার (২২ আগস্ট) পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা জাহাজডুবির খবর জানতে পারেন।
মামুনের বন্ধু শাহাদাত আল কাবিজু বলেন, ‘মামুন আমার খুব কাছের বন্ধু। আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। তার নিখোঁজের কোনো আপডেট এখনো পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিস কায়সার আজিজ জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
২৪ জন ক্রু নিয়ে ডুবে যায় জাহাজ
ভারতের ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি ডুবে যায়। এতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজটিতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন লৌহ আকরিক ছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে জাহাজটি। শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে আন্দামান-নিকোবরের শ্রী বিজয়পুরমে থাকা ভারতীয় কোস্টগার্ডের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে।
পরে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড’ বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে জরুরি উদ্ধার অভিযানের অনুরোধ জানানো হয়।
উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ড-নৌবাহিনী
খবর পেয়ে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে ‘ভারাদ’, ‘অনমোল’ ও নৌবাহিনীর ‘বিজিত’ নামের তিনটি বিশেষ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সাগরে ভাসমান একটি লাইফ র্যাফট থেকে দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ২২ জনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।























