ফসলি জমিতে নদী খননের ‘পাঁয়তারা’
- আপডেট সময় : ১২:১৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারের প্রস্তাবিত নদী পুনঃখনন প্রকল্পে নিজেদের রেকর্ডকৃত সম্পত্তি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন ডিডি শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফুলজোর নদীর মূল অংশ খনন করা হলেও এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে শাখা নদী দেখিয়ে নতুন করে খননের পাঁয়তারা চলছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলে সেখানে খনন করা হবে না।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায় দৌলতপুর ইউনিয়নের ডিডি শাহবাজপুর গ্রাম। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা ও বছরের অর্ধেক সময়ের খাদ্যের যোগান আসে এই ফসলি জমি থেকে। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে রবি শস্য ও ধান চাষ করে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কিন্তু সম্প্রতি সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জে ২০৩ কিলোমিটার খাল খননের সার্ভে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে ডিডি শাহবাজপুর গ্রামেই প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা খননের পরিকল্পনা রয়েছে। আর এখানেই শুরু হয়েছে বিপত্তি।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফুলজোর নদীর মূল অংশ আগেই খনন করা হয়েছে। এখন যে জায়গাটিকে শাখা নদী বা সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তা মূলত তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে ভোগদখল করা রেকর্ডকৃত জমি। যার নিয়মিত খাজনা-খারিজও দিয়ে আসছেন তারা।
কৃষকদের এমন উদ্বেগের বিষয়ে কথা বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা বিষয়টিকে প্রাথমিক পর্যায়ের সার্ভে হিসেবে উল্লেখ করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান।
তবে তার এমন আশ্বাসে মন ভরছে না শাহবাজপুরবাসীর। নিজেদের পৈত্রিক ভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় তারা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
গ্রামবাসীদের হুঁশিয়ারি, ফসলি জমি নষ্ট করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইলে তারা আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

























