৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর মামলার অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পরও পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে।
তবে গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় জিয়াউর রহমানকে
১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে যান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে তিনি চট্টগ্রাম সফরে গিয়েছিলেন।
সফরের প্রথম দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। পরে রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘুমাতে যান। কয়েক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে হামলা চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জিয়াউর রহমান।
পরদিন ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথম তার নিহত হওয়ার খবর প্রচার করা হয়।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছেন মোজাফফর
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের নাম রয়েছে। মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিবরণ অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেন জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করার পর তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে রাষ্ট্রপতি নিহত হওয়ার খবর জানান বলে মামলার বিভিন্ন বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঞ্জুর নিহত হন। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত পার হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের ফলে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন করে তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার পুরোনো নথি ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে দীর্ঘদিন পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


























