হ্যাকারদের ঠেকাতে কেন পুরোনো প্রযুক্তির দিকে ফিরছে বিশ্ব
- আপডেট সময় : ০২:১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
সাইবার হামলার আশঙ্কায় প্রযুক্তির আধুনিক দৌড়ের মাঝেই নতুন এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হ্যাকারদের নজর এড়াতে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ফিরে যাচ্ছেন পুরোনো প্রযুক্তির দিকে। এমন কিছু প্রযুক্তি, যেগুলো আজকের তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছেই অচেনা।
বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিকো হিপ্পোনেন এর অন্যতম উদাহরণ। যেখানে অধিকাংশ মানুষ জিমেইল বা হটমেইল ব্যবহার করছেন, সেখানে তিনি বছরের পর বছর ব্যবহার করেছেন পুরোনো ইমেইল সফটওয়্যার ‘ইউডোরা’। সফটওয়্যারটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বহু বছর পরও তিনি এটি চালিয়ে গেছেন।
মিকো হিপ্পোনেনের মতে, নতুন প্রযুক্তি যত বেশি জনপ্রিয় হয়, সাইবার অপরাধীদের আগ্রহও তত বাড়ে। কিন্তু পুরোনো ও কম ব্যবহৃত প্রযুক্তির দিকে সাধারণত হ্যাকারদের নজর কম থাকে। এই ধারণাকে তিনি বলেছেন ‘সিকিউরিটি বাই অ্যান্টিকুইটি’ বা ‘সেকেলে হওয়ার নিরাপত্তা’।
সহজভাবে বললে, কোনো প্রযুক্তি যত কম ব্যবহৃত হয়, সেটি অনেক সময় তত বেশি নিরাপদ হয়ে ওঠে। কারণ, সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য আক্রমণ চালিয়ে হ্যাকারদের লাভ কম হয়।
শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, সরকারি ও সামরিক ক্ষেত্রেও পুরোনো প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। জিপিএস সিগন্যাল জ্যামিং বা বিকৃতির ঝুঁকি বাড়ায় আয়ারল্যান্ডের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ পুরোনো রেডিও নেভিগেশন ব্যবস্থা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও ফিরছে অ্যানালগ প্রযুক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধে অনেক সামরিক সদস্যকে ডিজিটাল ডিভাইসের পাশাপাশি কাগজের মানচিত্র ও কম্পাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কারণ, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো এগুলো সহজে জ্যাম করা যায় না।
তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পুরোনো প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে। ক্যাসেট ও ম্যাগনেটিক টেপের মতো প্রযুক্তি এখনো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব মাধ্যমে রাখা তথ্য র্যানসামওয়্যারসহ অনেক সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকে তুলনামূলক নিরাপদ থাকে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে তাই অনেকের কাছে পুরোনো প্রযুক্তি এখন আর সেকেলে নয়, বরং নিরাপত্তার একটি কার্যকর কৌশল।



























