হরমুজে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা ইরানে অনুমোদন
- আপডেট সময় : ১২:২৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭৩২ বার পড়া হয়েছে
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি আদায়ের বিধান রেখে একটি খসড়া আইনের ধারা অনুমোদন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক খসড়া আইনটি নিয়ে কমিটিতে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। বিলটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছেন আইনপ্রণেতারা।
বিভিন্ন সেবার জন্য নেওয়া হবে ফি
কমিটির মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, আগের বৈঠকে স্থগিত থাকা বিলটির তৃতীয় ধারা পর্যালোচনার পর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ধারায় হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এসব সেবার মধ্যে রয়েছে নৌ চলাচল-সংক্রান্ত সহায়তা, পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিমা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অর্থাৎ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় জাহাজগুলো যেসব সেবা পাবে, সেগুলোর বিপরীতে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
কাশকাভি বলেন, যেসব দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, তাদের কাছ থেকেই এসব ফি আদায় করা হবে। ফি ইরানি রিয়ালে অথবা তেহরান কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় পরিশোধ করা যাবে।
আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অধিকার স্বীকার
ইরানি কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত আইনটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অধিকারকে অস্বীকার করছে না। বরং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বীকৃত অধিকার বজায় রেখেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রণালীর উপকূলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অধিকার রক্ষার বিষয়টিও খসড়া আইনে গুরুত্ব পেয়েছে। ইরানের দাবি, প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অধিকার ও স্বার্থ বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তেলজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রধান তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশের আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে এই নৌপথের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও অবাধ নৌ চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তেহরানের নতুন এই উদ্যোগ আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার বিধান কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের খরচ ও পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
তেল ও জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এই জলপথকে ঘিরে যেকোনো নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হলে তা পরিবহন খরচ বাড়াতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক দামের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ইরানের পার্লামেন্টে অনুমোদিত ধারাটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। খসড়া আইনটির আরও পর্যালোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে।
তবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং উপকূলীয় দেশগুলোর অধিকার নিয়ে ইরান তার অবস্থান আরও স্পষ্ট করল। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর।





















