সাভারে এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই মো. আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। পরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন তিনি।
দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি এসআই আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখতে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মরণোত্তর পুলিশ পদক দেওয়ার নির্দেশ
কর্মজীবনে নৈতিকতা, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে এসআই আলতাফ হোসেনকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুলিশ বাহিনীতে প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে আলতাফ হোসেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি।
পরবর্তীতে ডিএমপি, রাঙ্গামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন।
যেভাবে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ
গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মেটাতে সেখানে যান এসআই আলতাফ হোসেন।
একপর্যায়ে তিনি সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও হাতুড়ি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
এ সময় বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
ঘটনার পর নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সংগঠন। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পর মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মৃত্যুকালে এসআই আলতাফ হোসেন স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।


























